শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের একটি বড় অংশের তরুণ প্রজন্ম এখন অনেক ক্ষেত্রেই গভীরভাবে চিন্তা বা বিশ্লেষণ না করে ‘ইনস্ট্যান্ট কফি’র মতো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। এ প্রবণতা তাদের বোঝার সক্ষমতা ও বিশ্লেষণী শক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) ‘বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ও লাইভে আসার প্রবণতা তরুণদের মধ্যে এক ধরনের সংস্কৃতি তৈরি করেছে। এমনকি অনেক শিক্ষার্থী ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায়ও শিক্ষক বা দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সম্পর্কে অসম্মানজনক মন্তব্য করতে দ্বিধা করছে না। এতে করে প্রশ্ন উঠছে— তরুণ প্রজন্মকে আমরা কোথায় নিয়ে যাচ্ছি এবং তাদের নৈতিক ভিত্তি কতটা দুর্বল হয়ে পড়ছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের প্রায় ২৭ শতাংশ জনগোষ্ঠী তরুণ হলেও তাদের যথাযথভাবে গড়ে তোলা না গেলে প্রত্যাশিত ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ অর্জন করা সম্ভব হবে না। এজন্য তরুণদের চিন্তাশীল, দায়িত্বশীল ও নৈতিকভাবে শক্তিশালী করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মেধাস্বত্ব (ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি) খাতে বাংলাদেশের পিছিয়ে থাকার কথাও উল্লেখ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের অনেক উদ্ভাবন ও সৃজনশীল কাজ বিদেশে গিয়ে নিবন্ধিত হচ্ছে, অথচ দেশে সেই সুযোগ ও প্রক্রিয়া যথাযথভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে না। প্রশাসনিক জটিলতাসহ বিভিন্ন কারণে এ খাতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। দেশের মেধাবীরা বিদেশে চলে যাচ্ছেন এবং তাদের সৃষ্টিশীলতা অন্য দেশের কাজে লাগছে। এই প্রবণতা রোধ করে কীভাবে মেধাস্বত্ব দেশে ফিরিয়ে আনা যায়, সে বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে উদ্ভাবন ও ক্রীড়াকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের অংশীদারিত্ব বাড়াতে তরুণদের দক্ষতা ও সৃজনশীলতা কাজে লাগানোর বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে মেধাস্বত্ব সুরক্ষা, উদ্ভাবন এবং তরুণদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউজিসির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ। এছাড়াও এ সময় ইউজিসির অন্যান্য সদস্য, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, আইকিউএসি সেলের পরিচালক, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
খুলনা গেজেট/এএজে

